গৌড়চন্দ্রিকা | বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন | ড. অতুল সুর

প্রাচীন বাঙলার অপর নাম ছিল ‘গৌড়’। সেজন্য বইথানার ভূমিকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গৌড়চন্দ্রিকা’। আর বইখানার শিরোনামে গৃহীত ‘বিবর্তন’ শব্দটা ব্যবহৃত হয়েছে আভিধানিক অর্থে। ‘বিবর্তন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘পরিবর্তন’। ‘বিবর্তন’ শব্দের সঙ্গে অবনতি বা উন্নতির কোন সম্পর্ক নেই। একমাত্র সম্পর্ক হচ্ছে রূপান্তরের সম্পর্ক। সেজন্য কালের ঘূর্ণনে বিভিন্ন যুগে বাঙালী জীবনে যে রূপান্তর ঘটেছে, তারই ইতিহাস দেওয়া হয়েছে এই বই খানাতে। তবে এ ইতিহাস কোন ‘পোশাকী’ বা ‘ফরম্যাল’ ইতিহাস নয়। সম্পূর্ণ ভাবে এটা ‘আটপৌরে’ বা ‘ইনফরম্যাল’ ইতিহাস। এটা বিষয়-বিন্যাসের পদ্ধতি থেকেই বুঝতে পারা যাবে। এককথায় বইখানাতে পাওয়া যাবে বাঙালী জীবনের সৃজন, বিকাশ ও বিপর্যয়ের ইতিহাস।

গৌড়চন্দ্রিকা | বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন | ড : অতুল সুর [ Dr. Atul Sur ]
ড : অতুল সুর [ Dr. Atul Sur ]
বইখানা লেখা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের উক্তিকে স্মরণ করে। রবীন্দ্রনাথ বলে ছিলেন—’আমরা ইতিহাস পড়ি—কিন্তু যে ইতিহাস দেশের জনপ্রবাহকে অবলম্বন করিয়া প্রস্তুত হইয়া উঠিয়াছে, যাহার নানা লক্ষণ, নানা স্মৃতি আমাদের ঘরে বাইরে নানা স্থানে প্রত্যক্ষ হইয়া আছে, তাহা আমরা আলোচনা করি না বলিয়া ইতিহাস যে কী জিনিষ, তাহার উজ্জল ধারণা আমাদের হইতে পারে

বাঙালীর জীবনযাত্রা শুরু হয়েছিল মানুষের আবির্ভাবের দিন থেকে। ভূ তাত্ত্বিক আলোড়ন ও চঞ্চলতার ফলে বাঙলা দেশ গঠিত হয়ে গিয়েছিল প্লাওসিন যুগে। ভূতত্ত্ববিদগণের হিসাব অনুযায়ী সেটা ঘটেছিল প্রায় দশ থেকে পঁচিশ লক্ষ বৎসর পূর্বে। মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল আরও পরে, আজ থেকে পাঁচ লক্ষ বৎসর আগে। তার আগেই ঘটেছিল জীবজগতে ক্রমবিকাশের এক কর্মকাও। বানরজাতীয় জীবগণ চেষ্টা করছিল বিভিন্ন লক্ষণযুক্ত হয়ে নানা বৈশিষ্ট্যমূলক শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হতে। এরূপ এক শাখা থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল নরাকার জীবসমূহ (primates)।

[ গৌড়চন্দ্রিকা | বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন | ড. অতুল সুর ]

এরূপ নরাকার জীবসমূহের কঙ্কালাম্বি আমরা পেয়েছি ভারতের উত্তর-পশ্চিমে শিবালিক শৈলমালা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে। বিবর্তনের ছকে তাদের আমরা নাম দিয়েছি শিবপিথেকাস, রামপিথেকাস, স্থগ্রীৰপিথেকাস ইত্যাদি। আরও উন্নত ধরনের নরাকার জীবের কঙ্কালাস্থি পাওয়া গিয়েছে ভারতের দক্ষিণ-পূর্বে জাভা দ্বীপে ও চীন দেশের চুংকিং-এ। এখন এই তিনটি জায়গায় তিনটি বিন্দু বসিয়ে যদি সরলরেখা দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তা হলে যে ত্রিভুজ সৃষ্ট হবে, তারই মধ্যস্থলে পড়বে বাঙলা দেশ। সুতরাং এরূপ নরাকার জীবসমুহ যে বাঙলা দেশের ওপর দিয়ে যাতায়াত করত, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এসব নরাকার জীব থেকেই মানুষের উদ্ভব ঘটেছিল।

মানুষের প্রথম সমস্যা ছিল আত্মরক্ষা ও খাদ্য আহরণ। জীবন-সংগ্রামের এই সমস্যা সমাধানের জন্য, তাকে তৈরি করতে হয়েছিল আয়ুধ। আয়ুধগুলো একখণ্ড পাথর অপর একখও পাথরের সাহায্যে তার চাকলা তুলে হাতকুঠার ও অন্য আকারে নির্মিত হত। এগুলোকে আমরা প্রত্নোপলীয় যুগের আয়ুধ বলি।

গঠনপ্রণালী ও চারিত্রিক বিশিষ্টত র দিক দিয়ে এগুলোকে আমরা কালানুক্রমিক মাতটা যুগে ফেলি। যথা (১) আবেভিলিয়ান, (২) অ্যাগুলিয়ান, (৩) লেভালয় সিয়ান, (৪) মুস্টেরিয়ান, (৫) অরিগনেসিয়ান, (৬) সলুটিয়ান ও (9) ম্যাগডেলে নিয়ান। এগুলো সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশ অনুসন্ধান ও অনুশীলন হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপে। সেজন্যই এই সকল আয়ুবের ‘টাইপ’-এর নাম পশ্চিম ইউরোপের অঞ্চলবিশেষের নাম অনুসারে করা হয়েছে। তবে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদগণ তাদের কাজের সুবিধার জন্য প্রদ্বোপলীয় যুগকে তিন ভাগে ভাগ করেন, যথা— আদি, মধ্য ও অস্তিম। আয়ুধ নির্মাণ ছাড়া, প্রত্নোপলীয় যুগের মানুষের আরও কয়েকটা বৈশিষ্ট্য ছিল, যথা ভাবপ্রকাশের জন্য ভাষার ব্যবহার, পরিবার গঠন, পশু-শিকার হুগম করবার জন্য পর্বত গুহায় বা পর্বতগাত্রে পশুর চিত্রাঙ্কন দ্বারা ঐন্দ্রজালিক প্রক্রিয়ার আশ্রয় গ্রহণ, ও আগুনের ব্যবহার।

মুস্টোরয়ান যুগের আগেকার যুগের মানুষের কোন কঙ্কালান্তি আমরা পাইনি। মুস্টেরিয়ান যুগে যে জাতির মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল, তাদের আমরা নিয়ানডারথাল মানুষ বলি। তবে সে জাতির মানুষ এখন লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। যে জাতির মানুষ থেকে আধুনিক জাতিসমূহ উদ্ভূত হয়েছে, তাদের আবির্ভাব ঘটে আনুমানিক ৪০,০০০ বৎসর পূর্বে। তাদের আমরা ক্রোম্যানিয়ন (Cro Magnon ) জাতির মানুষ বলি।

খুব প্রাচীনকালের মানুষের কঙ্কালাস্থি ভারতে পাওয়া যায়নি। বিখ্যাত প্রত্নাস্থিতত্ত্ববিদ স্যার আর্থার কীথ ১৯১৮ খ্রীস্টাব্দে যখন তাঁর ‘অ্যান্‌টিকুইটি অত্ ম্যান’ নামক বই লেখেন, তখন তিনি বলেছিলেন— ‘প্রাচীন মানুষের সম্বন্ধে যারা অনুসন্ধান করেন, তাঁরা ভারতের দিকেই আশার দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন, কিন্তু এ পর্যন্ত তাঁদের নিরাশ হতে হয়েছে।’ অম্বুসন্ধানের উদ্যোগের অভাবই এর একমাত্র কারণ। সম্প্রতি ( ১৯৭৮ খ্রীস্টাব্দে ) মেদিনীপুর জেলার রামগড়ের অদূরে সিজুয়ায় পাওয়া গিয়েছে এক জীবাশ্মীভূত ভগ্ন মানব-চোয়াল। রেডিয়ো-কারবন—১৪ পরীক্ষায় এর বয়স নির্ণীত হয়েছে ১০,৫০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ । তার মানে প্রত্নোপলীয় যুগের একেবারে অন্তিম পর্বে, কেননা নবোপলীয় যুগ শুরু হয়েছিল ৮,০০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে বা তার কিছু পূর্বে।

তবে প্রত্নোপলীয় যুগের প্রথম দিকের মানুষের কঙ্কালাস্থি পাওয়া না গেলেও, মানুষ যে সেই প্রাচীন যুগ থেকেই বাঙলা দেশে বাস করে এসেছে, তার প্রমাণ আমরা পাই বাঙল। দেশের নানাস্থানে পাওয়া তার ব্যবহৃত আয়ুধসমূহ (tools ) থেকে। (পৃষ্ঠা ৭০ দেখুন)। এগুলো সবই পশ্চিম ইউরোপে প্রাপ্ত প্রত্নোপলীয় যুগের হাতকঠারের অনুরূপ। প্রত্নোপলীয় (palaeolithic ) যুগের পরিসমাপ্তির পরই সূচনা হয় নবোপলীয় (neolithic ) যুগের।

এ যুগেই কৃষি ও বয়নের উদ্ভব হয়, এবং মানুষ পশুপালন করতে শুরু করে। তবে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন যা নবোপলীয় যুগে ঘটেছিল, তা হচ্ছে মানুষ তার যাযাবর জীবন পরিহার করে, স্থায়ীভাবে গ্রামে বাস করতে শুরু করেছিল। ধর্মেরও উদ্ভব ঘটেছিল। তাদের ধর্মীয় জীবন সম্বন্ধে আমি আমার ভারতের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় গ্রন্থে আলোচনা করেছি, সেজন্য এখানে আর তার পুনরাবৃত্তি করছি না। নবোপলীয় যুগের কষ্টির নিদর্শন আমরা দার্জিলিঙ থেকে মেদিনীপুর পর্যন্ত নানাস্থানে পেয়েছি। শুধু তাই নয়, নবোপলীয় যুগের অনেক কিছুই আমরা আজ পর্যন্ত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ধরে রেখেছি, যথা ধামা, চুবড়ি, কুলা, ঝাঁপি, বাটনা বাটবার শিল-নোড়া ও শষ্য পেষাইয়ের জন্ম যাতা ইত্যাদি। এগুলো সবই আজকের বাঙালী নবোপলীয় যুগের ‘টেকনোলজি’ অনুযায়ী তৈরি করে। তা ছাড়া, নবোপলীয় যুগের শ্যই, আজকের মানুষের প্রধান খাদ্য।

জীবনচর্যাকে সুখময় করবার জন্য মানুষের জয়যাত্রা নবোপলীয় যুগেই ত্বরান্বিত হয়। কেননা, মাত্র পাঁচ হাজার বৎসরের মধ্যেই নবোপলীয় যুগের গ্রামীণ সভ্যতা তাম্রাশ্মযুগের নগরসভ্যতায় বিকশিত হয়। তাম্রাশ্বযুগের নগরসভ্যতার নিদর্শন আমরা পেয়েছি বর্ধমান জেলার পাণ্ডুরাজার ঢিবি ও সন্নিহিত অঞ্চলে। এই বইয়ের অন্যত্র আমি বলেছি— ‘তাম্রাশ্মযুগের সভ্যতার অভ্যুদয়ে তামাই প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।

মিশর বলুন, ঘুমের বলুন, সিন্ধু উপত্যকা বলুন, সর্বত্রই আমরা সভ্যতার প্রথম প্রভাতে তামার ব্যবহার দেখি। সুতরাং আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি যে তাম্রাশ্ম সভ্যতার উন্মেষ এমন কোন জায়গায় হয়েছিল, যেথানে তাম৷ প্রভূত পরিমাণে পাওয়া যেত। এখানে সেখানে তারা অবশ্য সামান্য কিছু কিছু পরিমাণে পাওয়া যেত, কিন্তু তা নগণ্য। বাঙলাই ছিল সে-যুগের তামার প্রধান আড়ত। তামার সবচেয়ে বৃহত্তম খনি ছিল বাঙলা দেশে।

বাঙলার বণিকরাই ‘সাত সমুদ্দুরে তের নদী পার হয়ে, ওই তামা নিয়ে যেত সভ্যতার বিভিন্ন কেন্দ্রসমূহে বিপণনের জন্য। এজন্যই বাঙলার বড় বন্দরের নাম ছিল তাম্রলিপ্তি। ওই তামা সংগৃহীত হত ধলভূমে অবস্থিত তৎকালীন ভারতের বৃহত্তম তাম্রখনি হতে।’ (পৃষ্ঠা ৭১) আমি আরও বলেছি যে এই তামার সঙ্গে বাঙালী অন্যত্র নিয়ে গিয়েছিল শিব ও শক্তিপূজার বীজ, যা বাঙলার নিজস্ব ধর্ম। বস্তুত বাঙলাদেশে যত শিবমন্দির দেখতে পাওয়া যায়, তত আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।

এখানে একথা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে বাঙালী এখনও তার ঠাকুরঘরে ব্যবহার করে তাম্রাশ্মযুগের সম্পদ, যথা পাথর ও তামার থালাবাসন, তামার কোষাকুষি ইত্যাদি। (৩৮৪ পৃষ্ঠায় ‘সংযোজন’ দেখুন ) তাছাড়া, নিম্নবাগুলার অনেক স্থানে যেমন মেদিনীপুর জেলার তমলুক ( প্রাচীন তাম্রলিখি), তিলদা ( তমলুক থেকে ২৪ মাইল দূরে ), পান্না (ঘাটাল থেকে ৪ মাইল দক্ষিণে ), বাহিরি ( কাঁথি মহকুমায়) ও রঘুনাথপুর ( তমলুক থেকে ১২ মাইল দক্ষিণে ), এবং চব্বিশ পরগনার বেড়াচাঁপা বা চন্দ্রকেতুগড় ( কলকাতার ২৩ মাইল উত্তরে), আটঘরা (কলকাতার ১২ মাইল দক্ষিণে ), হরিহরপুর ( মল্লিকপুর রেল স্টেশনের নিকটে ), হরিনারায়ণপুর ( ডায়মও হারবারের ৪ মাইল দক্ষিণে ) প্রভৃতি স্থানে কীলক চিহ্নাঙ্কিত প্রাচীন মুদ্রা, কুশান ও গুপ্ত যুগের মুদ্রা, পোড়ামাটির নানারকম মূর্তি, মৃত্তিকা নির্মিত সীলমোহরাদি আবিষ্কৃত হয়েছে। নানারকম প্রত্নবদ্ধ থেকে প্রমাণিত হয় যে গ্রীক ও রোমান জগতের সঙ্গে এ অঞ্চলের সমৃদ্ধিশালী বাণিজ্য ছিল।

বাঙালীকে মিশ্র জাতি বলা হয়। এ সম্পর্কে বলা প্রয়োজন যে অধুনালুপ্ত প্রায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের আদিম অধিবাসিগণ ব্যতীত, জগতে এমন কোন জাতি নাই, যারা মিশ্র জাতি নয়। অস্তত নৃতত্ত্ববিদ্‌গণের কাছে এমন কোন জাতির নাম জানা নেই যারা বিশুদ্ধ রক্ত বহন করে। তার মানে, পৃথিবীর অন্যান্য জাতিরা যেমন মিশ্র জাতি, বাঙালীও তাই।

বাঙালীর আবয়বিক নৃতাত্ত্বিক গঠনে যেসব জাতির রক্ত মিশ্রিত হয়েছে, তারা হচ্ছে অস্ট্রিক ভাষা ভাষী বাঙলার আদিম অধিবাসী, ও আগন্তুক দ্রাবিড় ভাষাভাষী ভূমধ্যসাগরীয় নরগোষ্ঠী ও আর্যভাষাভাষী আলপীয় (বা দিনারিক) জাতিসমূহ। তবে অস্ট্রিক ভাষাভাষী বাঙলার আদিম অধিবাসী ও আলপীয় (বা দিনারিক) রক্তই প্রধান। এই শেষোক্ত জাতিই বাঙালীকে দিয়েছে তার প্রধান নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য— হুম্বকপাল (brachycephallic ) । এখানেই উত্তর ভারতের দীর্ঘ-কপাল ( dolichocephalic) জাতিসমূহ থেকে বাঙালীর পার্থক্য। (এ সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে ‘বাঙালীর নৃতাত্ত্বিক পরিচয়’ অধ্যায়ে)।

বাঙালীর জীবনচর্যায় ‘অস্ট্রিক’ প্রভাব খুব বেশী। বাঙালীর ভাষা ও সাংস্কৃতিক জীবন এর বহু নিদর্শন বহন করে। বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ এ. সি. হ্যাডন তাঁর ‘রেসেস্ অভ্ ম্যান্’ বইয়ে বলেছেন যে ‘অস্ট্রিক’ ভাষাভাষীরা এক সময় পঞ্জাব থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের সুদূরে অবস্থিত ইস্টার দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বাঙালী জীবনে ‘অস্ট্রিক’ প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষিত হয় বাঙালীর লৌকিক জীবনে । সে জন্যই বাঙালীর লৌকিক জীবনের একটা পরিচয় আমি দিয়েছি বইখানার গোড়ার দিকে।

বস্তুত ‘অস্ট্রিক’ জীবনচর্যার ওপরই গঠিত হয়েছে বাঙালীর জীবন চর্যার বনিয়াদ। সেই বনিয়াদের ওপরই স্তরীভূত হয়েছে দ্রাবিড় ও আলপীয় উপাদান। তবে আলপীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল বলেই, এই তিনজাতির মহাসম্মিলনে যে জীবনচর্যা গড়ে উঠেছিল, তা আলপীয় ‘অস্থর’দের (পৃষ্ঠা ৪৪-৪৫ ও ৮১-৮২ দেখুন) নাম অনুসারে অসুর জাতির জীবনচর্যা নামে পরিচিত হয়েছিল। আমাদের প্রাচীন সাহিত্য এটাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে।

মহাভারতের আদিপর অনুযায়ী অসুর-রাজ বলির পাঁচ পুত্রের নাম থেকেই অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র ও শুদ্ধ রাজ্যের নামকরণ হয়েছে। আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প’ নামে এক প্রাচীন বৌদ্ধগ্রন্থেও বাঙলা দেশের ভাষাকে ‘অসুর’ জাতির ভাষা বলা হয়েছে। (‘অহরানাম্ ভবেৎ বাচ গৌড়পুজোদ্ভব সদা’)। মাত্র আবয়বিক গঠন ও ভাষার দিক দিয়েই নয়, অম্বুরজাতির সমগ্র জীবনচর্যাটাই উত্তরভারতের ‘নর্ডিক’ নরগোষ্ঠীভুক্ত বৈদিক আর্যগণের জীবনচর্যা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ছিল। এই জীবনচর্যার পার্থক্যের জন্যই বৈদিক আর্যরা বাঙলাদেশের ‘অস্থর’ জাতি-ভুক্ত লোকদের তির্যকদৃষ্টিতে দেখতেন। আর্যদের সঙ্গে অসুরদের বিরোধের এটাই ছিল কারণ। ( লেখকের ‘ভারতের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়’ দ্রঃ)।

আর্যরা যখন পঞ্চনদের উপত্যকায় এসে বসতি স্থাপন করেছিল, তখন উত্তর ভারত এক জনহীন শূন্যদেশ ছিল না। সেখানেও লোকের বসতি ছিল। তারা কারা? আগেই উল্লেখ করেছি যে বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ হ্যাডনের উপলব্ধি অনুযায়ী ‘অস্ট্রিক’ ভাষাভাষী জাতিসমূহই পঞ্জাব থেকে ইস্টার দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বস্তুত আর্যরা যখন পঞ্চনদের উপত্যকাকে পাদমঞ্চ করে পূর্বদিকে তাদের জয়যাত্রা শুরু করেছিল, তখন তাদের এই ‘অস্ট্রিক’ ভাষাভাষী গোষ্ঠীরই সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

তখন ‘অস্ট্রিক’ গোষ্ঠীসমূহের সঙ্গে অসুররা না। কেননা, ‘আয়বিক নৃতত্ত্বের পরিমাপ অনুযায়ী অস্থর বা আলপীয় গোষ্ঠী বিহারের পশ্চিম সীমানা পর্যন্তই বিস্তৃত ছিল। সে কারণেই একাকী ‘এস্ট্রিক’ গোষ্ঠীসমূহের পক্ষে অসম্ভব ছিল আর্যদের অশ্ববাহিত জঙ্গীরথকে প্রতিহত করা। কেননা, অশ্ব ভারতের জন্তু নয়। সিন্ধুসভ্যতার কোন কেন্দ্রেই অশ্বের কঙ্কালাস্থি পাওয়া যায় নি। পণ্ডিতমহলে আজ এটা সর্ববাদিসম্মতরূপে স্বীকৃত হয়েছে যে, আর্যরাই মধ্য এশিয়ায় ঘোড়াকে পোষ মানিয়েছিল, এবং অশ্ববাহিত জঙ্গীরথে করেই তারা ভারতে প্রবেশ করেছিল।

ভারতে পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত হত বলীবদ। বলীবর্দকে এদেশের লোক শ্রদ্ধার চক্ষে দেখত, কেননা বলীবর্দ ছিল শিবের বাহন; অপর পক্ষে আর্যরা বলীবর্দকে হত্যা করত ও তার মাংস ভক্ষণ করত। যাই হোক, অশ্ববাহিত জঙ্গীরথের সুবিধা থাকার দরুনই আর্যরা তাদের বিজয় অভিযানে সাফল্য অর্জন করেছিল। এই সাফল্য মিথিলা বা বিদেহ পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে ছিল। সেখানে এসেই আর্যদের পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছিল ‘অসুর’ জাতি এবং অপর এক জন্তুর নিকট। সে জন্তু হচ্ছে হস্তী। হস্তীকে প্রথম পোষ মানিয়েছিল প্রাচ্যদেশের এক মুনি, নাম পালকাপ্য (পৃষ্ঠা ৬ দেখুন)।

বাঙলার রণহস্তী যে মাত্র আর্যদেরই ঠেকিয়ে রেখেছিল তা নয়। এই রণহস্তীর সমাবেশের কথা শুনেই গ্রীক বীর আলেকজাণ্ডার বিপাশা নদীর তীর থেকে ঈদেশে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রাচ্যভারতে আর্যদের বিজয় অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল, আর এক কারণে। সে কারণ বিবৃত হয়েছে ঐতরেয় ব্রাহ্মণে। সেখানে বলা হয়েছে—’অসুরগণের সঙ্গে দেবগণের (আর্যদের) লড়াই চলছিল। প্রতিবারেই অসুররা আর্যদের পরাহত করছিল। তখন দেবগণ বলল, অসুরদের মত আমাদের রাজা নেই (‘অরাজতয়’), সেই কারণেই আমরা হেরে যাচ্ছি। অতএব আমাদের একজন রাজা নির্বাচন করা হউক। (‘রাজানম্ করবমহ ইতি তথেতি’)।’ অথর্ববেদেও বলা হয়েছে ‘একরাট’ মাত্র প্রাচ্যদেশেই আছে। ‘একরাট’ মানে সার্বভৌম নৃপতি। ইতিহাসও তাই বলে।

Ancient Bengal Map [ প্রাচীন বাংলার ম্যাপ ]
Ancient Bengal Map [ প্রাচীন বাংলার ম্যাপ ]
প্রাচ্যদেশেই প্রথম সাম্রাজ্য গঠিত হয়েছিল। এটা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মৌর্যসম্রাট চন্দ্রগুপ্ত। কিন্তু তিনি উত্তর ভারতের ‘নডিক’ নরগোষ্ঠীভুক্ত বৈদিক আর্যদের কাছে নতি স্বীকার করেননি। মৌর্যরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন। গুপ্ত-সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সময়কাল পর্যন্ত বাঙলায় বৌদ্ধ ধর্মেরই প্রাধান্য ছিল। গুপ্তদম্রাগৈণের আমলেই বাঙলায় প্রথম ব্রাহ্মণ্যধর্মের অনুপ্রবেশ ঘটে। কিন্তু সে ব্রাহ্মণ্যধর্ম আর্য-ঐতিহ্যমণ্ডিত ব্রাহ্মণ্যধর্ম নয়। যে সকল ব্রাহ্মণ দলে দলে বাঙলায় এসেছিল, তারা নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছিল, আর্যেতর সমাজের কাহিনী সমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত পুরাণাশ্রিত ব্রাহ্মণ্যধর্মের স্রোতে।

সে ধর্ম বৈদিক ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। সে ধর্মে ইন্দ্র, বরুণ প্রভৃতি বৈদিক দেবতাসমূহের প্রাধান্য ছিল না। তারা সম্পূর্ণ পশ্চাদপটে অপসারিত হয়েছিল। তৎপরিবর্তে এক নতুন দেবতাশ্রেণী সৃষ্ট হয়েছিল, যার শীর্ষে অবস্থিত ছিলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। আবার তাদেরও শীর্ষে ছিলেন এক নারী দেবতা, শিবজায়া দুর্গা। শিব অনার্য দেবতা। ব্রহ্মা অবৈদিক দেবতা। আর বিষ্ণু বৈদিক দেবতা হলেও, তাঁর রূপান্তর ঘটেছিল আর্যেতর সমাজের কল্পনার দ্বারা। এটা প্রকাশ পেল যখন অবতারবাদের সৃষ্টি হল।

অবতারমণ্ডলীতে বিন্যস্ত মং্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ প্রভৃতি অস্ট্রিক সমাজের টোটেম-ভিত্তিক কল্পনা থেকেই গৃহীত। আর বুদ্ধ তো বেদবিদ্বেষের প্রবক্তা। এঁরা সকলেই কল্পিত হলেন বৈদিক বিষ্ণুর অবতাররূপে। শুধু তাই নয়। বিষ্ণুর সহধর্মিণী হলেন অনার্য দেবতা শিব-কন্যা লক্ষ্মী। পুরাণসমূহ রচনা করেছিলেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস। মহাভারতও তাঁর রচনা। বেদসঙ্কলনের ভারও তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। এ সম্পর্কে বহুদিন পূর্বে আমি একটা প্রশ্ন তুলেছিলাম, কিন্তু তার কোন সদুত্তর আজও পাইনি। প্রশ্নটা হচ্ছে—‘তথাকথিত বৈদিক আর্যগণের মধ্যে বড় বড় পণ্ডিত থাকা সত্ত্বেও বেদ-সংকলন, মহাভারত ও পুরাণসমূহ রচনার ভার, কেন একজন অনার্যরমণীর জারজ সন্তানের ওপর ন্যস্ত হয়েছিল ?

গুপ্তসাম্রাজ্যের পতনের পর শশাঙ্ক বাঙলার রাজা হন। তিনিই বাঙলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি যিনি দিগ্বিজয়ে বেরিয়ে কান্যকুব্জ থেকে গঞ্জাম পর্যন্ত জয় করেছিলেন। তিনি শিব উপাসক ছিলেন। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে প্রশ্ন উঠেছিল—‘শিব বড়, না বিষ্ণু বড়?’ এই প্রশ্নের সমাধানের জন্যই হরিহর মূর্তির কল্পনা করা হয়েছিল।

শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাঙলায় মাৎস্যন্যায়ের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। দেশকে মাৎস্যন্যায় থেকে উদ্ধার করেন পালবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল। তিনিই প্রথম বাঙলার লোককে বৃত্তিগত জাতিতে বিন্যস্ত করবার চেষ্টা করেছিলেন। সমগ্র ভারতের ইতিহাসে পালবংশই একমাত্র রাজবংশ, যে বংশের রাজারা ৪০০ বৎসর রাজত্ব করেছিলেন। পালবংশের রাজত্বকালই হচ্ছে বাঙলার ইতিহাসের গৌরবময় যুগ। তাঁরা যে সাম্রাজিক অভিযান চালিয়েছিলেন, তাতে তাঁরা গান্ধার থেকে সমুদ্র পর্যন্ত সমস্ত ভুখণ্ড জয় করেছিলেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জসমূহের সঙ্গেও তাঁরা সৌহার্দপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। তাঁদের আমলেই বজ্রযান বৌদ্ধধর্ম বিশেষ প্রসারলাভ করে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য তাদের আমলে বিশেষ উৎকর্ষতা লাভ করে। বাঙালীর প্রতিভা বিকাশের এটাই ছিল এক বিস্ময়কর যুগ।

পালেদের ( Pala dynasty ) পর সেনবংশের আমলে ব্রাহ্মণ্যধর্মের আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথা সেনযুগেই প্রথম দৃঢ় রূপ ধারণ করে। পালযুগের ন্যায় সেনযুগেও স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের বিশেষ উন্নতি ঘটে। এ যুগের বিষ্ণুমূর্তিসমূহ এক অপূর্ব নান্দনিক সুষমায় বিভূষিত। সেনবংশের লক্ষণসেনের আমলেই বাঙলা মুসলমানগণ কর্তৃক বিজিত হয়। তারই সঙ্গে আরম্ভ হয় বাঙলায় বিপর্যয়ের যুগ। মূর্তি ও মঠ-মন্দির ভাঙা হয়। হিন্দুদের ব্যাপকভাবে ধর্মান্তরিত করা হয়। আর শুরু হয় ব্যাপকভাবে নারীধর্ষণ। এটাই ছিল ধর্মান্তর করণের প্রশস্ত রাস্তা, কেননা ধর্ষিতা নারীকে আর হিন্দুসমাজে স্থান দেওয়া হত না। হিন্দুসমাজ এ সময় প্রায় অবলুপ্তির পথেই চলেছিল। এই অবলুপ্তির হাত থেকে হিন্দুসমাজকে রক্ষা করেন স্মার্ত রঘুনন্দন ও শ্রীচৈতন্য। (পৃষ্ঠা ২৪৫)।

Ancient Bengal Map [ প্রাচীন বাংলার ম্যাপ ]
Ancient Bengal Map [ প্রাচীন বাংলার ম্যাপ ]
তবে ইতিহাসের পাতায় বাঙলার মধ্যযুগ ‘স্মরণীয় হয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের স্বতঃস্ফুরণের জন্য। আর্যেতর সমাজের দেবতাগণের এই সময় আত্মপ্রকাশ ঘটে, এবং তাদের অবলম্বন করে এক বিরাট ‘মঙ্গলসাহিত্য’ হষ্ট হয়। এছাড়া, অনুবাদ সাহিত্য, পদাবলী সাহিত্য ও চৈতন্য জীবনচরিতসমূহ এ যুগের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে। তবে এ যুগে নতুন করে একটা সমাজবিন্যাস ঘটে, সে সমাজে উদ্ভূত কৌলীনপ্রথা সমাজে এক যৌনবিশৃঙ্খলতা আনে। রামনারায়ণ তর্করত্ব ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বলেছেন যে কৌলীন্ঠপ্রথার ফলে বাঙলার কুলীন ব্রাহ্মণ সমাজে এভাবে দুষিত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রামনারায়ণ তর্করত্ন ও বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রচেষ্টার ফলেই বাঙলার কুলান ব্রাহ্মণসমাজ এই কালিমার কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়।

বাঙালী সমাজকে আরও বিশৃঙ্খল করে তুলেছিল যখন এদেশে বিদেশী বণিকরা আসতে শুরু করে। ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগীজরাই প্রথম এদেশে আসে। তাদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন পর্যায়ে শুরু হয় নারীধর্ষণ ও অবৈধ যৌনমিলন। বাঙালী মেয়েদের রক্ষিতা হিসাবে রাখবার ফারমান (firman ) পর্তুগীজরা পায় মুঘল দরবার থেকে। কিন্তু পর্তুগীজদের পরে ইংরেজরা যখন এদেশে আসে তখন তারা বিনা ফারমানেই বাঙালী মেয়েদের রক্ষিতা হিসাবে রাথতে শুরু করে। এসব মেয়েদের তারা ‘বিবিজান’ বলত। পুরানো কবরখানা সমূহের স্মৃতিফলকে এরূপ অনেক বিবিজ্ঞানের উল্লেখ আছে। এক কথায় সমাজ ক্রমশ অবক্ষয়ের পথেই চলেছিল।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঊনবিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত হয় নবজাগৃতি (Renai sance)। নবজাগৃতির ফলে সমাজ খানিকটা সুসংহত হয়েছিল বটে, কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর যুগের সমাজে আবার প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈতিক শৈথিল্য। বাঙালীর যে প্রতিভা একদিন মহামতি গোপালকৃষ্ণ গোখেলকে উদ্বুদ্ধ করেছিল উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করতে যে “What Bengal thinks today, India thinks tomorrow’, তা আজ কালাজ্বরের গর্ভে চলে গিয়েছে। বাঙালী আজ তার নিজ সংস্কৃতির স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছে। অশনে বসনে আজ সে হয়েছে বহুরূপী। আজ সে এক বর্ণচোরা জারজ সংস্কৃতির ধারক হয়েছে। বাঙালীর বিবর্তনের এটাই শেষ কথা। আজকের প্রশ্ন—বাঙালী কোন্ পথে ? এই প্রশ্ন রেখেই এই ‘গৌড়চন্দ্রিকা’ শেষ করছি।

বইখানির প্রথম প্রকাশের পর, বাঙলার ইতিহাস সম্বন্ধে যে সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে ও নতুন ঐতিহাসিক তথ্য জানা গিয়েছে, তা মূল পাঠের মধ্যেই সংযুক্ত করা হয়েছে। আর বই ছাপা হয়ে যাবার পর যা জানা গিয়েছে সে সম্বন্ধে ৩৮৪ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত ‘সংযোজন’-এ উল্লেখিত হয়েছে।

পরিশেষে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ‘সাহিত্যলোক’ প্রকাশন সংস্থার স্বত্বাধিকারী শ্রীনেপালচন্দ্র ঘোষকে, উদ্যম ও উৎসাহের সঙ্গে বইখানা প্রকাশ করার জন্য। শ্রীঅশোক উপাধ্যায় প্রুফ সংশোধনে সহায়তা করেছেন এবং শ্রীঅরুণচাঁদ দত্ত বর্তমান সংস্করণের নির্ঘণ্ট তৈরি করেছেন, সেজন্য তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

আরও পড়ুন:

বাঙালীর নৃতাত্ত্বিক পরিচয় – ড: অতুল সুর

“গৌড়চন্দ্রিকা | বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন | ড. অতুল সুর”-এ 4-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!